বারাসাতের বিস্মৃত ইতিহাস: চিকিৎসাসেবায় কালীকৃষ্ণ মিত্রের অবদান ও হোমিওপ্যাথির প্রসার উনিশ শতকের বারাসাত। আজকের মতো উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা, হাসপাতাল কিংবা আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ তখন সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য ছিল না। বিশেষ করে দরিদ্র ও গ্রামীণ মানুষের কাছে অসুস্থতা অনেক সময় হয়ে উঠত এক কঠিন জীবনসংগ্রাম। সেই সময় বারাসাতের মাটিতে এমন একজন মানুষ চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, যাঁর নাম আজকের প্রজন্মের অনেকের কাছেই অপরিচিত। তিনি কালীকৃষ্ণ মিত্র। তিনি শুধু একজন চিকিৎসক ছিলেন না, চিকিৎসাবিষয়ক গ্রন্থের রচয়িতাও ছিলেন। তাঁর চিকিৎসাকেন্দ্রে দূরদূরান্ত থেকে দরিদ্র মানুষ আসতেন। তৎকালীন বারাসাতের ম্যালেরিয়া-প্রবণ পরিস্থিতিতে তাঁর ভূমিকার কথাও ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবরণে উঠে এসেছে। বাংলা গণনাট্যের পথিকৃৎ দীনবন্ধু মিত্রের কবিতাতেও তাঁর মানবসেবার স্বীকৃতি পাওয়া যায়। বারাসাতের ইতিহাসের এই বিস্মৃত অধ্যায়টি নতুন করে জানার প্রয়োজন রয়েছে। উনিশ শতকের বাংলায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রসার কালীকৃষ্ণ মিত্রের চিকিৎসাসেবার কথা বুঝতে হলে প্রথমে জানতে হবে উনিশ শতকের বাংলায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রসারের পটভূমি। উনিশ শতকের গোড়ায় ইউরোপে প্রচলিত অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার বিকাশ শুরু হয়। এই চিকিৎসাপদ্ধতির প্রবর্তক ছিলেন জার্মান চিকিৎসক স্যামুয়েল হ্যানিম্যান। তাঁর চিকিৎসাদর্শনের মূল নীতি ছিল Similia Similibus—অর্থাৎ সদৃশ দ্বারা সদৃশের চিকিৎসা। এই চিকিৎসাপদ্ধতি ধীরে ধীরে ইউরোপের বাইরেও পরিচিতি লাভ করে এবং ভারতেও এর প্রসার ঘটতে শুরু করে। আপনার সরবরাহ করা বইয়ের বিবরণ অনুযায়ী, ১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার প্রথম হেলথ অফিসার ডাঃ টনেয়ার বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার বার্তা নিয়ে আসেন। কলকাতায় এই চিকিৎসাপদ্ধতিকে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র এবং পরবর্তীকালে সুপরিচিত চিকিৎসক রাজেন্দ্র দত্ত। রাজেন্দ্র দত্ত প্রথমদিকে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও পরে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় আত্মনিয়োগ করেন। বইটিতে তাঁর চিকিৎসাদর্শন সম্পর্কে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, হোমিওপ্যাথি চর্চা করতে গিয়ে তাঁর মনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছিল যে এই চিকিৎসাপদ্ধতির মাধ্যমে তিনি দরিদ্র মানুষের বিশেষ উপকার করতে পারবেন। এই বিশ্বাস তাঁর হৃদয়ে আমৃত্যু বদ্ধমূল ছিল। এই বক্তব্যটি শুধু একজন চিকিৎসকের পেশা পরিবর্তনের কাহিনি নয়, বরং চিকিৎসাকে মানুষের সেবার মাধ্যম হিসেবে দেখার একটি দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরে। নবজাগরণের সময়ে কালীকৃষ্ণ মিত্রের ভূমিকা উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণ ছিল সমাজ, শিক্ষা, সাহিত্য ও চিন্তাভাবনার পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ের বহু শিক্ষিত ও সমাজসচেতন মানুষ চিকিৎসা এবং জনকল্যাণের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। আপনার পাঠানো বইয়ের বিবরণে বিদ্যাসাগর, কালীকৃষ্ণ মিত্র, প্যারীচরণ সরকার, ভূদেব মুখোপাধ্যায় এবং দীনবন্ধু ন্যায়রত্নের মতো ব্যক্তিত্বদের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রসারের সঙ্গে যুক্ত করে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বৃহত্তর সামাজিক প্রেক্ষাপটেই কালীকৃষ্ণ মিত্রের নাম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কর্মকাণ্ডের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল চিকিৎসাসেবাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। চিকিৎসা যেন কেবল সমাজের সম্পন্ন মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ না থাকে, দরিদ্র মানুষও যেন চিকিৎসার সুযোগ পান—তাঁর কাজের মধ্যে এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়। বারাসাতে কালীকৃষ্ণ মিত্রের চিকিৎসাকেন্দ্র কালীকৃষ্ণ মিত্রের সঙ্গে বারাসাতের ইতিহাসের সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর চিকিৎসাকেন্দ্রের বিবরণে। বইটিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বারাসাতে কালীকৃষ্ণ মিত্রের একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ছিল। সেখানে দূরদূরান্ত থেকে দরিদ্র সাধারণ মানুষ চিকিৎসা করাতে আসতেন। একটু কল্পনা করে দেখুন, উনিশ শতকের বারাসাতের সেই সময়টাকে। চারদিকে গ্রামবাংলার পরিবেশ। কাঁচা রাস্তা, জলাশয়, সাধারণ মানুষের বসতি। অসুস্থ হলে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছনোই ছিল অনেক পরিবারের কাছে বড় সমস্যা। সেই পরিস্থিতিতে একজন চিকিৎসকের কাছে দূরদূরান্ত থেকে মানুষের আসা তাঁর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও নির্ভরতার পরিচয় বহন করে। কালীকৃষ্ণ মিত্রের চিকিৎসাকেন্দ্র সেই সময়ের দরিদ্র মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসার আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিল বলে বইটির বিবরণ থেকে জানা যায়। এখানে তাঁর অবদানের একটি বিশেষ দিক লক্ষণীয়। তিনি শুধু চিকিৎসাবিদ্যার চর্চা করেননি, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অসুস্থতা ও যন্ত্রণার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর কাজের মূল পরিচয় ছিল মানবসেবা। তৎকালীন বারাসাতে ম্যালেরিয়া এবং কালীকৃষ্ণ মিত্র উনিশ শতকের বারাসাতের জনজীবনে ম্যালেরিয়া ছিল একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা। জলাভূমি, পুকুর, অপরিকল্পিত জলজমা এবং তৎকালীন পরিবেশগত পরিস্থিতির কারণে বাংলার বহু অঞ্চলের মতো বারাসাতেও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করত। আপনার সরবরাহ করা বইয়ের অংশে কালীকৃষ্ণ মিত্রের ভূমিকার প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: তৎকালীন বারাসাতের ম্যালেরিয়া রোগ নির্মূলকরণে তাঁর ভূমিকা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। এই বক্তব্য কালীকৃষ্ণ মিত্রের জনসেবামূলক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। তবে বইয়ের এই সংক্ষিপ্ত বিবরণে ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় তাঁর নির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতি, রোগীর সংখ্যা কিংবা কোনও পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি। তাই তাঁর অবদানকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হলে এই বিষয়গুলির আরও প্রামাণ্য দলিল অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। তবুও একটি বিষয় স্পষ্ট—তৎকালীন বারাসাতের চিকিৎসাসেবার ইতিহাসে কালীকৃষ্ণ মিত্রের নাম বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখিত হয়েছে। দীনবন্ধু মিত্রের কবিতায় কালীকৃষ্ণের স্বীকৃতি কালীকৃষ্ণ মিত্রের মানবসেবার সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী পরিচয় পাওয়া যায় বাংলা গণনাট্যের পথিকৃৎ দীনবন্ধু মিত্রের লেখা দুটি পঙ্ক্তিতে। বইটিতে উদ্ধৃত হয়েছে— “জ্ঞানাগার কালীকৃষ্ণ স্বভাব বিনীতবারাসাতে প্রাণ রক্ষা পায় শত শত।” এই দুটি পঙ্ক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীনবন্ধু মিত্র কালীকৃষ্ণকে শুধু একজন চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করেননি। তাঁর জ্ঞান, বিনয় এবং মানুষের জীবন রক্ষায় অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে দ্বিতীয় পঙ্ক্তিটি বারাসাতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে আরও স্পষ্ট করে। “বারাসাতে প্রাণ রক্ষা পায় শত শত”—এই কথার মধ্যে রয়েছে একজন চিকিৎসকের প্রতি সমাজের শ্রদ্ধা এবং তাঁর সেবার স্মৃতি। এটি নিছক প্রশংসাসূচক বাক্য হিসেবে দেখার বিষয় নয়। বরং তৎকালীন সমাজে একজন চিকিৎসক কীভাবে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারতেন, তার একটি সাহিত্যিক সাক্ষ্য হিসেবেও এই পঙ্ক্তিগুলিকে বিবেচনা করা যায়। কালীকৃষ্ণ মিত্রের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে আরও গবেষণার ক্ষেত্রে দীনবন্ধু মিত্রের এই কবিতাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। চিকিৎসক কালীকৃষ্ণ মিত্রের সাহিত্য ও গ্রন্থরচনা কালীকৃষ্ণ মিত্রের অবদান শুধু চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে একাধিক পুস্তক রচনা করেছিলেন। আপনার পাঠানো বইয়ের অংশে তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ১. সদৃশ চিকিৎসা বিধান ২. ভেষজগুণসংগ্রহ (Materia Medica and Repertory) ৩. শিশু চিকিৎসা ও বামা চিকিৎসা ৪. গার্হস্থ্য ব্যবস্থা ও পঞ্চ চিকিৎসা এই বইগুলির নাম থেকেই বোঝা যায়, চিকিৎসাবিষয়ক জ্ঞানকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে তিনি লেখালেখি করেছিলেন। শিশুদের চিকিৎসা, গার্হস্থ্য চিকিৎসা এবং ভেষজ ওষুধের গুণাগুণের মতো বিষয় তাঁর গ্রন্থরচনার পরিসরে স্থান পেয়েছিল। উনিশ শতকে যখন চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে বাংলা ভাষায় জ্ঞানচর্চা ও বই প্রকাশের প্রসার ঘটছিল, তখন কালীকৃষ্ণ মিত্রের মতো ব্যক্তিদের এই উদ্যোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ চিকিৎসাবিষয়ক জ্ঞান মাতৃভাষায় পৌঁছে দেওয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারত। তাঁর গ্রন্থগুলির মূল সংস্করণ, প্রকাশকাল এবং সম্পূর্ণ পাঠ উদ্ধার করা গেলে বাংলা ভাষায় চিকিৎসাবিষয়ক সাহিত্যচর্চার ইতিহাসেও নতুন তথ্য যুক্ত হতে পারে। রাজেন্দ্র দত্ত ও কালীকৃষ্ণ মিত্র: একই মানবসেবার ভাবনা বইটির বিবরণে রাজেন্দ্র দত্ত এবং কালীকৃষ্ণ মিত্রের নাম একই বৃহত্তর চিকিৎসা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে উঠে এসেছে। রাজেন্দ্র দত্তের ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই, চিকিৎসাকে দরিদ্র মানুষের উপকারের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করার একটি দৃঢ় বিশ্বাস। অন্যদিকে কালীকৃষ্ণ মিত্রের ক্ষেত্রে সেই বিশ্বাসের বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় বারাসাতের চিকিৎসাকেন্দ্র এবং দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবার বিবরণে। দুজনের কাজের মধ্যে একটি সাধারণ ভাবনা খুঁজে পাওয়া যায়—চিকিৎসার উদ্দেশ্য শুধু পেশাগত সাফল্য নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোও। এই দৃষ্টিভঙ্গিই উনিশ শতকের বাংলায় চিকিৎসার সামাজিক ইতিহাসকে বুঝতে সাহায্য করে। বারাসাতের ইতিহাসে কালীকৃষ্ণ মিত্রকে নতুন করে জানার প্রয়োজন বারাসাতের ইতিহাস বলতে আমরা সাধারণত বিভিন্ন জমিদার পরিবার, প্রাচীন বাড়ি, মন্দির, পুকুর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা ঔপনিবেশিক আমলের নানা ঘটনার কথা আলোচনা করি। কিন্তু একটি শহরের ইতিহাস শুধু তার স্থাপত্য কিংবা রাজনৈতিক ঘটনাবলির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সেই শহরের মানুষের জীবন, সমাজসেবা, শিক্ষা এবং চিকিৎসাব্যবস্থার বিকাশও ইতিহাসের সমান গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কালীকৃষ্ণ মিত্র সেই ইতিহাসেরই একজন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তাঁর চিকিৎসাকেন্দ্রে দূরদূরান্ত থেকে দরিদ্র মানুষের আসার বিবরণ, ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় তাঁর ভূমিকার স্মৃতি, চিকিৎসাবিষয়ক গ্রন্থ রচনা এবং দীনবন্ধু মিত্রের কবিতায় তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা—সব মিলিয়ে তিনি বারাসাতের সামাজিক ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান অধিকার করেন। আজকের প্রজন্মের কাছে তাঁর পরিচয় তুলে ধরা জরুরি। একই সঙ্গে তাঁর জীবনের আরও অজানা তথ্য, পুরোনো বই, চিকিৎসাকেন্দ্রের অবস্থান এবং সমসাময়িক নথিপত্র খুঁজে বের করাও প্রয়োজন। হয়তো বারাসাতের কোনও পুরোনো বাড়ি, গ্রন্থাগার কিংবা ব্যক্তিগত সংগ্রহে এখনও তাঁর জীবন ও কাজের আরও কোনও সূত্র লুকিয়ে রয়েছে। শেষ কথা ইতিহাসে অনেক মানুষের নাম থেকে যায়, কিন্তু তাঁদের কাজের প্রকৃত গুরুত্ব সময়ের সঙ্গে আড়ালে চলে যায়। কালীকৃষ্ণ মিত্র তেমনই একজন মানুষ, যাঁর পরিচয় শুধু একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবে নয়, বরং বারাসাতের দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো একজন সমাজসচেতন ব্যক্তিত্ব হিসেবেও স্মরণীয়। দীনবন্ধু মিত্রের সেই পঙ্ক্তি আজও তাঁর অবদানের কথা মনে করিয়ে দেয়— “জ্ঞানাগার কালীকৃষ্ণ স্বভাব বিনীতবারাসাতে প্রাণ রক্ষা পায় শত শত।” বারাসাতের ইতিহাসের এই অধ্যায় আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একটি শহরের গৌরব শুধু তার প্রাচীন স্থাপত্যে নয়, তার মানুষের মানবিক কাজের মধ্যেও বেঁচে থাকে। কালীকৃষ্ণ মিত্র সেই গৌরবেরই একজন বিস্মৃত প্রতিনিধি। বারাসাতের ইতিহাস জানুন, নিজের শহরের গর্বকে চিনুন। তথ্যসূত্র ও গবেষণার ভিত্তি এই প্রবন্ধের মূল তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে পাঠকের সরবরাহ করা বাংলা ইতিহাসগ্রন্থের সেই অংশ, যেখানে উনিশ শতকের বাংলায় হোমিওপ্যাথির প্রসার, রাজেন্দ্র দত্ত, কালীকৃষ্ণ মিত্রের চিকিৎসাসেবা, বারাসাতের ম্যালেরিয়া পরিস্থিতি, দীনবন্ধু মিত্রের কবিতার উদ্ধৃতি এবং কালীকৃষ্ণ মিত্রের রচিত চিকিৎসাবিষয়ক গ্রন্থগুলির উল্লেখ রয়েছে। সম্পাদকীয় নোট: কালীকৃষ্ণ মিত্রের জন্ম-মৃত্যুর সাল, চিকিৎসাকেন্দ্রের সুনির্দিষ্ট ঠিকানা, চিকিৎসাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার সাল এবং তাঁর গ্রন্থগুলির প্রথম প্রকাশের তারিখ সরবরাহ করা মূল অংশে পাওয়া যায়নি। তাই যাচাইযোগ্য দলিল ছাড়া এই তথ্যগুলি সংযোজন করা হয়নি। বইয়ের উদ্ধৃত বক্তব্যকে ঐতিহাসিক সূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে; চিকিৎসাপদ্ধতির কার্যকারিতা সম্পর্কে কোনও চিকিৎসাগত দাবি করা হয়নি। Post navigation বারাসাতের মাকড়শা পুকুরের ইতিহাস