বর্ষা মানেই বাঙালির পাতে ইলিশ। কিন্তু ইলিশের চাহিদা বাড়তেই বাজারে এমন অনেক মাছ বিক্রি হচ্ছে, যা দেখতে ইলিশের মতো হলেও আসলে ইলিশ নয়। অনেক ক্ষেত্রে সার্ডিন, চাঁদনা বা অন্যান্য রূপালি মাছকে ইলিশ বলে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সহজ লক্ষণ দেখলেই আসল ইলিশ ও নকল মাছের মধ্যে পার্থক্য বোঝা সম্ভব। ১. শরীরের গঠন আসল ইলিশের শরীর তুলনামূলকভাবে লম্বাটে, চাপা এবং মসৃণ। শরীরের দুই পাশ সমানভাবে ছড়ানো থাকে। অন্যদিকে চাঁদনা বা সার্ডিনজাতীয় মাছের শরীর তুলনামূলকভাবে মোটা বা উঁচু দেখায়। ২. মাথা ও মুখ ইলিশের মাথা কিছুটা লম্বা এবং সামনের অংশ সূচালো। নকল মাছের মাথা সাধারণত ছোট ও ভোঁতা ধরনের হয়। ৩. চোখ আসল ইলিশের চোখ শরীরের তুলনায় স্বাভাবিক আকারের হয়। নকল ইলিশ হিসেবে বিক্রি হওয়া অনেক মাছের চোখ তুলনামূলকভাবে বড় দেখা যায়। ৪. রঙের পার্থক্য তাজা ইলিশের পিঠে হালকা নীলচে-সবুজ আভা থাকে এবং শরীরে উজ্জ্বল রূপালি ঝিলিক দেখা যায়। অনেক নকল মাছে এই স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা থাকে না। ৫. কালো দাগ আসল ইলিশের ফুলকার কাছাকাছি একটি কালো দাগ থাকতে পারে। অন্যদিকে সার্ডিনজাতীয় মাছের ক্ষেত্রে পিঠের পাখনার গোড়ার দিকে কালো দাগ দেখা যায়। ৬. আঁশ ইলিশের আঁশ তুলনামূলকভাবে বড় এবং খুব সহজেই উঠে আসে। মাছ হাতে নিলেই অনেক সময় আঁশ খসে পড়তে দেখা যায়, যা ইলিশের একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। ৭. গন্ধ ও স্বাদ রান্নার সময় আসল ইলিশের নিজস্ব তীব্র ও মনমাতানো সুবাস ছড়িয়ে পড়ে। স্বাদেও থাকে আলাদা এক ধরনের তেলতেলে মাধুর্য, যা অন্য মাছে পাওয়া যায় না। ক্রেতাদের জন্য পরামর্শ বিশ্বস্ত মাছ বিক্রেতার কাছ থেকে ইলিশ কিনুন। অস্বাভাবিক কম দামে বড় ইলিশ পাওয়া গেলে সতর্ক থাকুন। মাছ কাটার আগে শরীর, মাথা ও চোখ ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। সম্ভব হলে সম্পূর্ণ মাছ কিনুন, যাতে বৈশিষ্ট্য দেখে যাচাই করা যায়। ইলিশ শুধু একটি মাছ নয়, বাঙালির আবেগ ও ঐতিহ্যের অংশ। তাই বাজারে ইলিশ কিনতে গেলে একটু সচেতন থাকলেই নকল মাছের ফাঁদ এড়ানো সম্ভব। কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য মনে রাখুন, তাহলেই সহজে চিনে নিতে পারবেন আসল ইলিশ।