উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে বিদেশি প্রজাতির আম চাষ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ। স্থানীয় কয়েকজন তরুণ উদ্যোক্তা ও নার্সারি মালিকের উদ্যোগে এখন সেখানে জাপানের জনপ্রিয় মিয়াজাকি, থাইল্যান্ডের চ্যাংমায় এবং ব্যানানা ম্যাংগোর মতো উন্নত জাতের আমের চাষ ও চারা উৎপাদন শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, বসিরহাটের একাধিক নার্সারিতে পরীক্ষামূলকভাবে বিদেশি আমগাছ লাগানোর পর ইতিমধ্যেই ভালো ফলন মিলেছে। শুধু ফল উৎপাদনই নয়, গ্রাফটিং ও কাটিং পদ্ধতিতে উন্নত মানের চারা তৈরি করে সেগুলি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয়ভাবে নতুন ব্যবসার সুযোগও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মিয়াজাকি আমকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। জাপানের এই বিশেষ আম তার উজ্জ্বল রং, স্বাদ ও উচ্চ বাজারদামের জন্য পরিচিত। সাধারণত একটি মিয়াজাকি আমের ওজন ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই আমের দাম অত্যন্ত বেশি হওয়ায় দেশেও ধীরে ধীরে এর চাহিদা বাড়ছে। নার্সারি মালিকদের দাবি, বসিরহাটের আবহাওয়া এই বিদেশি জাতের আম চাষের জন্য যথেষ্ট উপযোগী। সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে গাছে দ্রুত ফলন আসছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষও নিজেদের বাড়ির বাগান বা ছাদে এই ধরনের বিদেশি আমগাছ লাগাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। উদ্যোক্তাদের মতে, বিদেশি আমের চারা বিক্রি থেকেও উল্লেখযোগ্য লাভ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি চারার দাম সাধারণ আমগাছের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে নতুন দিশা দেখাচ্ছে এই উদ্যোগ। কৃষি বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, আধুনিক পদ্ধতিতে বিদেশি ফলের চাষ ভবিষ্যতে রাজ্যের কৃষকদের জন্য বিকল্প আয়ের বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে। বসিরহাটের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই বহু তরুণ চাষিকে অনুপ্রাণিত করছে।