গাড়ি কিংবা বাইকের সামনে “Ex-Police”, “Ex-Defence”, “Ex-Advocate”, এমনকি নানা ধরনের পরিচয় লেখা স্টিকার বা নামফলক লাগানোর প্রবণতা নিয়ে ফের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্টে সাধারণ মানুষের একাংশ এই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে প্রশ্ন তুলেছেন — রাস্তা যদি সবার জন্য সমান হয়, তাহলে এই ধরনের অতিরিক্ত পরিচয় দেখানোর প্রয়োজন কেন?

সমালোচকদের বক্তব্য, বহু ক্ষেত্রেই এই ধরনের স্টিকার বা ট্যাগ ব্যবহার করা হয় বিশেষ সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে। ট্র্যাফিক চেকিং এড়ানো, প্রভাব খাটানো বা নিজেদের ‘VIP’ হিসেবে তুলে ধরতেই অনেকেই গাড়িতে এইসব পরিচয় ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ উঠছে।

একজন নেটিজেন লিখেছেন, “Emergency services যেমন ambulance, fire service বা on-duty police ছাড়া অন্য কারও গাড়িতে এই ধরনের extra tag লাগিয়ে preferential treatment নেওয়ার দরকার নেই।”পোস্টে আরও দাবি করা হয়েছে, বহু প্রাক্তন সেনাকর্মী বা উচ্চপদস্থ অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক রয়েছেন, যাঁরা কখনও এই ধরনের স্টিকার ব্যবহার করেন না। তাঁদের মতে, সম্মান কোনও স্টিকার বা নামফলকে নয়, কাজ ও আচরণের মাধ্যমেই অর্জিত হয়।

এছাড়াও প্রশ্ন উঠেছে এই ধরনের পরিচয়ের সত্যতা নিয়েও। বর্তমানে বাজারে খুব সহজেই বিভিন্ন ধরনের “EX” স্টিকার তৈরি হয়ে যাচ্ছে, ফলে কে সত্যিই প্রাক্তন পুলিশ, সেনাকর্মী বা অন্য কোনও পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তা যাচাই করা সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।অনেকের মতে, এই প্রবণতা সমাজে এক ধরনের “fake VIP culture” এবং “চেনা আছে” মানসিকতাকে আরও উৎসাহিত করছে। সাধারণ নাগরিকদের একাংশের দাবি, প্রশাসনের উচিত এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় পরিচয়সূচক স্টিকার ব্যবহারের উপর নজরদারি বাড়ানো।

তবে অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করেন, অনেক প্রাক্তন সেনাকর্মী বা সরকারি কর্মচারী নিজেদের পরিচয়ের গর্ব থেকেই এই ধরনের স্টিকার ব্যবহার করেন, এবং সকল ক্ষেত্রেই তা প্রভাব খাটানোর উদ্দেশ্যে নয়।তবুও বিতর্ক থামছে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে —

“সম্মান কি সত্যিই স্টিকার দিয়ে প্রমাণ করতে হয়?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *